সুপ্রকাশ চক্রবর্তী: রাজ্য জুড়ে যখন একের পর এক সমবায় ব্যাঙ্ক নানা কারনে বন্ধের মুখে তখন হাওড়ার লিলুয়া কো:অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ক্রমশ তার শাখা বিস্তার করে চলেছে। ভট্টনগর, লিলুয়া, বামুনগাছি, বেলগাছিয়ার পর হাওড়া ময়দানে শাখা খুলল লিলুয়া কো:অপারেটিভ ব্যাঙ্ক। হাওড়ার ময়দান মেট্রো স্টেশনের সামনে সমবায়িকা ভবনের দ্বোতলায় লিলুয়া কো:অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পঞ্চম শাখার উদ্বোধন করেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরুপ রায়। তিনি বলেন, “গ্রাহকদের নানা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দিয়ে চলেছে লিলুয়া কো:অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেড।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি চলছে তাতে কো:অপারেটিভ ব্যাঙ্ক মানুষের পাশে থেকে কাজ করবে। কন্যাশ্রী, যুবশ্রীর মতো সরকারি প্রকল্পগুলির পরিষেবা যাতে সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে অনুরোধ জানিয়েছেন এবং এর ফলে সমবায় ব্যাংকের আরও উন্নতি ঘটবে এবং বাম আমলের মত সমবায় ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ হয়ে যাবে না বলে জানান।”। তবে তিনি বলেননি, বন্ধ হয়ে যাওয়া হাওড়ার বড় দুটি সমবায় ব্যাংকের কথা! কাসুন্দিয়া কো-অপারেটিভ ব্যাংক ও রামকৃষ্ণপুর কো-অপারেটিভ ব্যাংকের গ্রাহকরা কবে তাদের গচ্ছিত রাখা টাকা সম্পূর্ণ ফেরত পাবে।
হাওড়ার ময়দান মেট্রো স্টেশনের সামনে সমবায়িকা ভবনের দোতলায় লিলুয়া কো:অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পঞ্চম শাখার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী অরুপ রায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার জেলা শাসক মুক্তা আর্যা,হাওড়া পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী, ব্যাঙ্কের সম্পাদক অসিত কুমার মন্ডল, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার পার্থ প্রতিম পতি প্রমুখ।
অসিত কুমার মন্ডল বলেন, ১৯৭৯ সালে এই ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। যেটিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক হিসেবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সমবায় ভূষণ ও সমবায় রত্ন হিসেবে পুরস্কৃত করে। খুব শীঘ্রই তাদের শিবপুর শাখার উদ্বোধন হতে চলেছে।
সারা ভারতবর্ষে আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলোর অবস্থা যেখানে খুব একটা ভালোর দিকে নয়, সেখানে ক্রমশ লিলুয়া কো অপারেটিভ ব্যাংকের অগ্রগতি সমবায় ব্যাংকগুলোর কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ। প্রতি বছরই ঋণদানে ও লাভের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। রিজার্ভ ব্যাংক যে কারণে আরও দুটি নতুন শাখা বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সারা হাওড়া জেলায় তার এরিয়া অপারেশন বিস্তারের অনুমতি দিয়েছে।
বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১২ হাজার, লক্ষাধিক ডিপোজিটর। সিডিআর ৩০%, সি আর এ আর ৪২ শতাংশ। এন এফ টি , আর ডি জি এস , আই এম পি এস, এসএমএস ফেসিলিটি সহ ব্যাঙ্কিং পরিষেবার সমস্ত আধুনিক পরিষেবা গড়ে তোলা হয়েছে এই ব্যাঙ্কে। ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান দুলাল কান্তি দে বলেন, “এই ব্যাঙ্ক যাতে সারা রাজ্যে শাখা বিস্তারের সুযোগ পায়,তার জন্য রাজ্য সমবায় দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে।”


Users Today : 2
Users Last 30 days : 90
Total Users : 2669
Views Today : 3