হাটের ক্ষতিগ্রস্ত ব‍্যবসায়ীদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে ঋণ দেওয়া হবে

ইডিপি: ২১ জুলাই ধর্মতলার সমাবেশ শেষ করেই হাওড়ায় ভস্মীভূত পোড়া মঙ্গলা হাট পরিদর্শনে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপধ্যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এবং মুখ্যমন্ত্রী জানান, “অগ্নিকাণ্ডের কারণে যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা উপযুক্ত প্রমাণাদি দাখিলের মধ্য দিয়ে সরকারের যে ‘ভবিষ্যত প্রকল্প ‘ রয়েছে তার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পাঁচ লক্ষ টাকা করে ঋণ নিতে পারবেন।” ১৯৮৭ সালের পর এখন আবার ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ লাগা এই আগুন কেউ লাগিয়ে দিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান, রাজ‍্যের অগ্নিকণ্যা।
সেদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, মন্ত্রী অরূপ রায়, দমকল বিভাগের একজন আধিকারিক ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের একজনকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যে কমিটি ব্যাবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে তারা কি চাইছেন সে ব্যাপারে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেবে।” এর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সাপেক্ষে ৮ আগষ্ট সিআইডি শান্তি রঞ্জন দে’কে আটক করে।
ঐদিন ব্যবসায়ীদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেছিলেন, “জমির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নিয়ে যদি দেখা যায় জমি সরকারের, তাহলে সেখানে হাটের জন্য বিল্ডিং করে দেওয়া হবে সরকারি উদ্যোগে। আর যদি জমির পূর্বতন চুক্তির মেয়াদ শেষের পর নতুন করে মালিকানার ক্ষেত্রে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে সরকার জমি অধিগ্রহণ করতে পারে। আর যদি কারোর কোনো মালিকানা থাকে, সেক্ষেত্রে সেটা নিয়েও ভাবা হবে। কিভাবে কি করা যায়।”
এ ব্যাপারে দাঁ মঙ্গলা হাটের আইনসম্মত স্বত্বাধিকারী ‘দাঁ মঙ্গলা হাট কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড ও গজানন সার্ভিসেস এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’-এর পক্ষে নন্দকিশোর ভুতরা জানান, “আমরা আমাদের নিজেদের খরচেই মঙ্গলা হাট প্রস্তুত করে, তা এই মাসের মধ্যেই প্রত্যেকের হাতে তাদের প্রাপ্য বিধি সম্মত জায়গা বন্টন করে দেব।”
ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “তবে যাঁরা এইস্থানে ব্যবসা করতে চান তাদের সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে। আগামীদিনে নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিয়ে নজর রাখতে হবে যাতে কেউ ক্ষতি করতে না পারে।”

        মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, "এই মঙ্গলাহাটের সমস্ত ইউনিয়নকে একত্রিত হয়ে আলোচনায় বসতে  হবে। তখন যেন কেউ বেগতিক না করে। যদি কারোর এখানে অসুবিধা হয় তাহলে তাদের সাঁতরাগাছির কাছে পুর্নবাসন দেওয়া হবে।"  

যদিও ব্যাবসায়ীরা কেউ সাঁত্রাগাছি যেতে চান না তা মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের মাঝেই গলা উঁচিয়ে সকলে চিৎকার করে ওঠেন। তারা চেঁচিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, শান্তি রঞ্জন তাদের খুব জালাচ্ছে।
সেদিন পরিদর্শন করে মুখ‍্যমন্ত্রী অনুমান করেন, “কেরোসিনের গন্ধ ছাড়ছিল, এর তদন্ত সিআইডির হাতে দেওয়া হয়েছে। তারা তদন্ত করছে। পাশাপাশি কারোর যদি কাউকে সন্দেহ হয় তাহলে তারা থানায় অভিযোগ করবেন। পুলিশ তদন্ত করবে।”
অবশ্য দাঁ মঙ্গলা হাট বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে, সভাপতি শেখ মহঃ নিজামুদ্দিন ২০ জুলাই জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগে বলেছেন, শান্তি রঞ্জন দে নকল মালিক সেজে ২২ বছর ধরে ব্যবসায়ীদের থেকে প্রতি সপ্তাহে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন। এইসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই আগুনের পিছনে ওনার হাত থাকতে পারে।
এদিকে মঙ্গলাহাটের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক উমেশ রাইয়ের অভিযোগ, এই হাটে ব্যবসায়ীদের থেকে মোটা টাকা ‘তোলা’ তোলা হয়। যদিও ব্যবসায়ীদের কোনো স্বার্থ দেখা হয় না। এই হাটে কোনো অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই। যার ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিন সকালে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় আলাদাভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে অরূপ রায়ের বক্তব্য ছিল, “কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশ তদন্ত করে দেখবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যার বিরুদ্ধে ব্যাবসায়ীদের সরাসরি আগুন লাগানোর অভিযোগ সেই পোড়া মঙ্গলহাটের স্বঘোষিত মালিক শান্তিরঞ্জন দে বলেছেন, “ওই হাট নিয়ে অনেকগুলি মামলা চলছে। তার বিরুদ্ধে যে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে তা সর্বৈব মিথ্যা। তিনি এই ধরনের কোন কাজ করেননি বলে দাবি করেন।”
কিন্তু তিনি এই হাটের মালিক না হয়েও বছর বছর ব্যবসায়ীদের থেকে প্রতি সপ্তাহে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে গেলেন কিভাবে সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য, যার জেড়ে এতো কান্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

মেয়ের বিয়ের জন্য গড়ানো গহনার বাক্স ফেলে চলে গেলেন মা

Mon Aug 21 , 2023
গোপাল সেনাপতিকো-অপারেটিভ ব্যাংক ব‍্যবস্হা নিয়ে মানুষের মনে একটা ভীতির জায়গা রয়েছে। এরই মধ্যে আবার রামকৃষ্ণপুর কো-অপারেটিভ ব্যাংক, কাসুন্দিয়া কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মতো অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো বন্ধ হয়ে আছে। এই সংস্থাগুলোতে গচ্ছিত রাখা বহু মানুষ তাদের টাকা পয়সা সহ সম্বলটুকু এখনো ফেরত পায়নি। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে শিবপুর কেন্দ্রের ব্যাঁটরা কো-অপারেটিভ ব্যাংক একটার পর […]

You May Like

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930