আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু উদ্ভিদ উদ্যানে উদ্বোধন হল ‘প্রকৃতি পথ’

প্রণব ভট্টাচার্য: ভারতীয় বনস্পতি সর্বেক্ষণের অন্তর্গত আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যান হল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম উদ্ভিদ উদ্যানের মধ্যে একটি। ১৭৮৭ সালে কর্নেল রবার্ট কিড দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের সেরা বাগানগুলির মধ্যে অন্যতম ২৫ টি বিভাগ এবং ২৬ টি আন্ত সংযুক্ত জলাশয় সহ ২৭৩ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বাগান। কুড়ি হাজারটিরও বেশি প্রতিনিধিত্ব সম্বলিত তিন হাজারটিরও বেশি সপুষ্পক ও অপুষ্পক উদ্ভিদের সম্ভার এখানে রয়েছে। বহু বিপন্ন এবং দুর্লভ প্রজাতির সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এই বাগানটি প্রসিদ্ধ।
আসলে সাম্প্রতিক নগর জীবনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় আমাদের নেই। ইঁদুর দৌড়ে ব্যস্ত জনজীবনে কোন প্রত্যন্ত বনে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলা বা প্রকৃতির সৌন্দর্যে মোহিত হবার কোন সুযোগ আমাদের নেই। তাছাড়া এই পরিবেশ যা জীবন ধারণের জন্য একান্ত অপরিহার্য- পরবর্তী প্রজন্মকে সেই সম্পর্কে সচেতন করার কোন উপায়ও আমাদের কাছে খুব সীমিত।
প্রকৃতি সর্বদাই মানবজাতির জন্য জ্ঞান, মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধির উৎস। এই ব্যস্ত শহুরে কর্মজীবনে সবাই চায় প্রকৃতির সাথে একাত্ম হতে। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যান কর্তৃপক্ষ এখানকার একটি নিরবচ্ছিন্ন বনভূমিকে ‘প্রকৃতি পথ’ হিসেবে গড়ে তুলেছে। এটি ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এবং দু’কিমি পথ দ্বারা সংযুক্ত। আর এই পথটি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকৃতি পথের মূল আকর্ষণ হল এর ভিতরে তৈরি করা একটি ‘গাজিবো’। এখানে বসে যে কেউ পরিবেশের স্নিগ্ধতা, আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অনুভব করতে পারবে। জলাশয়ের ধারে অবস্থিত এই ‘গাজিবো’-য় বসে পাখিদের কলরব, পোকামাকড়ের গুঞ্জন, জলস্রোতের মৃদুমন্দ আওয়াজ এক গভীর অরণ্যের অনুভুতি দেবে।
এই প্রকৃতি পথের ভিতরে তিনশো সাত প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদের সম্ভার রয়েছে। যার মধ্যে অনেকগুলি হল স্থানীয় এবং বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। যমজ শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত এই ‘প্রকৃতি পথ’ হাওড়া বা সিটি অফ জয়ের জন্য ফুসফুস হিসেবে কাজ করবে। ‘প্রকৃতি পথ’-এ চলার মধ্যে দিয়ে দর্শনার্থীরা এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব করবে। নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেশ ও মানবতার সেবার জন্য পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং হাজার হাজার প্রবীণ নাগরিক প্রাতঃভ্রমণকারীদের সুস্বাস্থ্য প্রদান করতে এই বাগান কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার এই ‘প্রকৃতি পথ’ উদ্বোধন করেন পরিবেশ বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব লীনা নন্দন (আইএএস)। এদিন থেকেই এই ‘প্রকৃতি পথ’ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

Sat Apr 6 , 2024

You May Like

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031