গোপাল সেনাপতি
কো-অপারেটিভ ব্যাংক ব্যবস্হা নিয়ে মানুষের মনে একটা ভীতির জায়গা রয়েছে। এরই মধ্যে আবার রামকৃষ্ণপুর কো-অপারেটিভ ব্যাংক, কাসুন্দিয়া কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মতো অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো বন্ধ হয়ে আছে। এই সংস্থাগুলোতে গচ্ছিত রাখা বহু মানুষ তাদের টাকা পয়সা সহ সম্বলটুকু এখনো ফেরত পায়নি। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে শিবপুর কেন্দ্রের ব্যাঁটরা কো-অপারেটিভ ব্যাংক একটার পর একটা নজির সৃষ্টি করছে। তাই এই ব্যাংকের বহু পুরানো গ্রাহক রত্না মান্না বলছেন, “অন্য কো-অপারেটিভ ব্যাংক নিয়ে কিছু বলতে পারব না; কিন্তু ব্যাঁটরা কো-অপারেটিভ ব্যাংক যেকোনো ব্যাংক ব্যবস্থায় আমাদের কাছে একটা আস্থার নিদর্শন।
ব্যাঁটরা কো-অপারেটিভ ব্যাংকে শ্রীমতী মান্নার লকার, ওনার জীবন শুরু করা থেকে, তা প্রায় চল্লিশ বছর। এখন উনি বয়স্ক নাগরিকের দোড়গোড়ায়। ঘটনা হলো উনি আগামী জানুয়ারিতে মেয়ের বিয়ের জন্য একটা নেকলেস গড়িয়েছেন, ছয় থেকে সাত ভরি। যার দাম প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা।
আগামী জানুয়ারিতে মেয়ের বিয়ে। তারই জন্য প্রস্তুতি এবং সেটি গত ১২ জুলাই ব্যাংকের লকারে রেখে যাওয়ার জন্য আসেন।
লকারে অন্যান্য গহনার সঙ্গে এই গহনাটিও রাখার কথা, কিন্তু কোনভাবে সেটি লকারের নীচে পরে যায় এবং উনি বুঝতে না পেরে লকার বন্ধ করে বাড়ি চলে যান! সেই সম্পর্কে ওনার কোন জ্ঞাতও ছিল না। ব্যাঙ্কের লকার ইনচার্জ দীপঙ্কর ঘোষ পরদিন ওনাকে ফোন করলে উনি জানান, “কি হারিয়েছে আমার মনে নেই, তবে দেখলে বুঝতে পারব”।
দীপঙ্কর বাবু আমাদের জানান, “সৌভাগ্যক্রমে উনি ওইদিনের শেষ ব্যক্তি, যিনি লকারে এসেছিলেন! না হলে পরবর্তী কেউ পকেটে করে নিয়ে চলে গেলে, আমরা কেউ বুঝতে পারতাম না, আমাদের কিছু করারও থাকত না।”
দীপঙ্কর বাবুর কাছে অবশ্য এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। তিনি জানান, এর আগে কখনো কখনো কাস্টমাররা লকার-এর চাবি খোলা রেখেই চলে যান, পরদিন তাকে আবার তার গহনা সামগ্রী বুঝিয়ে দিতে হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৮ আগস্ট ওনার হাতে ওনার জিনিস তুলে দেন এবং উনি যতাস্থানে রেখে যান। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মিষ্টি মুখ করিয়ে যান।


Users Today : 5
Users Last 30 days : 157
Total Users : 3242
Views Today : 8