রাগিং এর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ কুন্ডু তিনতলা থেকে ঝাঁপ দেয় (প্রমান সাপেক্ষে)। তার আগে স্বপ্নদীপ মাকে ফোন করে বলেছিল, “মা আমার ভীষণ ভয় করছে, আমাকে নিয়ে যাও…. ।” বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের উজ্জ্বল ছাত্ররা পড়াশোনা করতে আসে, সেখানে এত ভয়ের পরিবেশ কেন?
পাশ করার পর প্রাক্তনীদের হোস্টেল থেকে বিতাড়িত করা হয় না কেন? কাদের মদতে বা কাদের প্রশ্রয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বেআইনিভাবে থেকে যায়? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য বলছেন, “মর্মান্তিক ঘটনা, কর্তৃপক্ষকে শক্ত হতে হবে!” কর্তৃপক্ষ এখনো শক্ত হননি কেন? একটার পর একটা ঘটনা ঘটবে, তারপরইবা কেন মনে হবে? যদিও র্যাগিং নিয়ে ইউজিসি’র অনেক কঠোর নির্দেশ আছে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রাক্তনীদের হোস্টেলে থাকাটাই বড় অপরাধ হয়েছে। আর যেখানে সিসি ক্যামেরা বহু অপরাধের কিনারা করে এবং অপরাধীদের সতর্ক করে! সেখানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এতে এত অনীহা কেন? —-এর দায় অবশ্যই কর্তৃপক্ষের উপর বর্তায়!
শহরে তো মেসের অভাব নেই। এক্ষেত্রে একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের মৃত্যু ঘটলো আর কয়েকটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের (অপরাধীদের) যবনিকা পড়ল!
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “… যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায়, তার ব্যবস্থা করব!” তাহলে সব ক্ষেত্রে অপরাধীরা কি শাস্তি পায় না?
সবথেকে বড় কথা, এখন বহুক্ষেত্রে বাবা-মাদের একমাত্র সন্তান! তাদেরকে বহু কষ্টে মানুষ করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা! এই ধরনের ঘটনা স্বপ্নদীপের ভাইয়ের মত বহু ভবিষ্যৎকে যাদবপুরের মত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে স্বপ্ন দেখতে এবং পাঠাতে ভয় পাবে। আর যারা দেশের ভবিষ্যৎকে নষ্ট করে তারা দেশদ্রোহী তকমা পাবে না কেন??
তবে আসার কথা শিক্ষকদের একাংশ স্বীকার করছেন, “আমরা শিক্ষকরা সব দেখে, সব জেনেও চুপ করে বসে থাকি বা পরোক্ষে সমর্থন করি।” এবং অনুশোচনা, “তাহলে সাধারণ মানুষ আমাদের শ্রদ্ধা করা দূরে থাকুক, ঘৃণা করবে।”— এর সদগতি হোক, চৈতন্য হোক!


Users Today : 1
Users Last 30 days : 69
Total Users : 3035
Views Today : 1