বাংলায় প্রথম আদি গুরু শঙ্করাচার্য মন্দিরে পূঙ্গানুর বীট

গোপাল সেনাপতি
পূঙ্গানুর বীট (গরু) ভারতের অন্ধ্র প্রদেশেরের চিতর জেলার প্রাণী। পূঙ্গানুর বীট পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট জাতের গরু। দাক্ষিণাত্য মালভূমির দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত চিত্তুর বা চিতর জেলার উৎপত্তিস্থল পুঙ্গানুর শহরের নামানুসারে এই জাতীয় গরুর নামকরণ করা হয়েছে। চওড়া কপাল এবং ছোট শিং সহ প্রাণী, সাদা এবং হালকা ধূসর রঙের হয়। এ জাতের গরুর দুধে স্নেহের পরিমান খুব বেশি থাকে। অন্যজাতের গরুর দুধে যেখানে ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ স্নেহ পদার্থ থাকে, সেখানে এই জাতের গুরুর দুধে ৮ শতাংশেরও বেশি স্নেহ পদার্থ থাকে। 
এদের গড় উচ্চতা ৭০-৯০ সেমি এবং ওজন ১১৫-২০০ কেজি। এই গাভীর প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫ লিটার দুধ পাওয়া যায় এবং প্রতিদিন ৫ কেজি খাদ্য গ্রহণ করান হয়। এটি অত্যন্ত খরা প্রতিরোধী ও একচেটিয়াভাবে শুকনো চারায় বেঁচে থাকতে সক্ষম।
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম এই গরু নিয়ে আসা হল হাওড়ার চ্যাটার্জি পাড়ায় আদি গুরু শঙ্করাচার্য মন্দির প্রাঙ্গণে।
আদি গুরু শঙ্করাচার্য মন্দির ও সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট ট্রাস্ট এর উদ্যোগে এই অভিনব ব্যবস্হাপনা। যদিও মন্দির কমিটি সারা বছর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সাথে নিজেদের যুক্ত রাখেন, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কর্মসূচি পালন করেন।
মন্দির প্রাঙ্গণে একটি গরু আসার আগমনে সকল সদস্যদের ও অধিবাসী বৃন্দদের আনন্দ দেখার মত। এই গো-বংশের বৈশিষ্ট্য, এদের উচ্চতা সর্বোচ্চ দুই ফিট এবং ছোট খাটো চেহারাতেই প্রাপ্ত বয়স্ক রূপেই থাকবে।
এই উপলক্ষ্যে ২১ মে পূজা, অভিষেক ও নামকরণ হলো।
যার আন্তরিক ইচ্ছায় বা যার মাতৃ স্নেহে বড় হয়ে উঠবে তিনি হলেন শ্রীমতি পিঙ্কি গোস্বামী। তিনি তার নাম রেখেছেন- কৃষ্নান। কৃষ্নানের নামকরণ অনুষ্ঠান দেখতে মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন শ্রী পার্থ শেঠ, ভবানী প্রসাদ ভট্টাচার্য এবং সুজিত পাঠক। এবং আদিত্য বাহিনী ও আনন্দ বাহিনীর সদস্যরা ও আর্যাম্বার সদস্যরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন AAWA এর সভাপতি শ্রী জয়ন্ত গোস্বামী ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
পুরো ব্যাপারটা যার মস্তিষ্কপ্রসূত সংস্হার ট্রাস্টী শ্রী দেবাশীষ গোস্বামী বলেন, “গো বংশ বিস্তার ও সংরক্ষণ করা আমাদের প্রত্যেক সনাতনী হিন্দুদের কর্তব্য এবং গোমাতা হলেন আমাদের ঈশ্বরের এক রূপ। আর কৃষ্নান হলো আমাদের মন্দিরের জীবন্ত নন্দী মহারাজ – মহাদেবের সব থেকে প্রিয়জন।”
মন্দির এর সেবাইত অভিজিত, বিদেশ , অর্পণ, সৌভিক এবং শ্যামল, হরেকৃষ্ণ (বাবলু), বিষ্ণুপদ, হর্ষ, ইন্দ্রনাথ; এরা দিন-রাত্রি কৃষ্নান-এর দেখা শোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে থাকছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “প্রতিদিন থাকবে কৃষ্নানের দর্শনের জন্য নির্ধারিত সময়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

পুকুর দান ও তা রক্ষাই বোঝাবে আপনি কত বড় সমাজসেবী

Mon Jul 3 , 2023
গোপাল সেনাপতি: আবহাওয়া দপ্তর খবর দিচ্ছে, গরম আরো বাড়বে তা কত বাড়বে? আপনিও জানেন না আমিও জানিনা! সাবধান আর পুকুর চুরি করবেন না, বরং সর্বশক্তি দিয়ে তা রক্ষা করুন।ব্যঙ্গার্থে আমরা পুকুর চুরির কথাই শুনে থাকি আর বর্তমান সমাজে আমরা অনেকেই আস্ত পুকুর ছুরি আখচার দেখছিও, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। কিন্তু মাকড়দহ […]

You May Like

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031